বিদ্যুৎ বিল কম আসবে সারারাত এসি চালালেও! জানুন উপায়

গরমের সময় স্বস্তিতে ঘুমাতে অনেকেই সারা রাত এয়ার কন্ডিশনার বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চালিয়ে রাখেন। দীর্ঘ সময় এসি চললে যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে যাবে—এমন ধারণা থাকলেও শুধু টানা কয়েক ঘণ্টা চালু রাখাই সাধারণত বড় সমস্যা নয়। বরং এসির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না করা, ফিল্টার অপরিষ্কার রাখা, খুব কম তাপমাত্রায় চালানো কিংবা বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি থাকলে যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। এতে কুলিং কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলও বেড়ে যেতে পারে।

সারারাত এসি চালানো কি নিরাপদ?

রাতে সাধারণত দিনের তুলনায় বাইরের তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকে। ফলে ঘর ঠান্ডা রাখতে এসিকে দিনের মতো বেশি পরিশ্রম করতে হয় না। তাই শুধু সারারাত চালু থাকার কারণে এসি দ্রুত নষ্ট হবে—এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই। তবে পুরোনো বা ত্রুটিপূর্ণ এসি দীর্ঘ সময় চালালে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য ব্যবহারের সময়ের চেয়ে যন্ত্রটির অবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণের দিকে বেশি নজর দেওয়া জরুরি।

ফিল্টার অপরিষ্কার রাখবেন না

এসির ফিল্টারে নিয়মিত ধুলা জমে। দীর্ঘদিন ফিল্টার পরিষ্কার না করলে বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি হয়। তখন ঘর ঠান্ডা করতে এসিকে বেশি সময় কাজ করতে হয়। এতে কম্প্রেসারের ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি কুলিংয়ের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বেড়ে যেতে পারে বিদ্যুৎ খরচ।

সময়মতো সার্ভিসিং করান

এসি চালু হচ্ছে মানেই সেটি ভালো অবস্থায় আছে—এমন নয়। নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের মাধ্যমে ফিল্টার ও প্রয়োজনীয় অংশ পরিষ্কার করা এবং কুলিং ও এয়ারফ্লো ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করা যায়। দীর্ঘদিন সার্ভিসিং না করালে কুলিং কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচও বাড়তে পারে।

১৬ ডিগ্রিতে এসি চালানোর দরকার নেই

ঘর দ্রুত ঠান্ডা করার জন্য অনেকে এসির তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করেন। কিন্তু এত কম তাপমাত্রায় চালানোর প্রয়োজন নেই। এতে নির্ধারিত তাপমাত্রায় পৌঁছাতে কম্প্রেসারকে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হতে পারে, ফলে বিদ্যুৎ খরচ বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

কত ডিগ্রি হতে পারে আরামদায়ক সেটিং

আরাম ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস একটি ব্যবহারযোগ্য সেটিং। তবে ঘরের আকার, বাইরের তাপমাত্রা, মানুষের সংখ্যা ও এসির ক্ষমতার ওপর উপযুক্ত তাপমাত্রা কিছুটা নির্ভর করে। অপ্রয়োজনে খুব কম তাপমাত্রা নির্ধারণ করবেন না।

এছাড়াও এসির এয়ারফ্লো ঠিক আছে কি না দেখুন। প্লাগ, ওয়্যারিং ও বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।

সবশেষে, সারারাত এসি চালানোকে একমাত্র সমস্যা হিসেবে না দেখে সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ফিল্টার পরিষ্কার রাখা, সময়মতো সার্ভিসিং করা এবং অযথা কম তাপমাত্রায় এসি না চালালে যন্ত্রের কর্মক্ষমতা বজায় রাখার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *